অসমাপ্ত ভালোবাসা (পর্ব ৬)

জোহা তার হারানো প্রেমিক জোহান চৌধুরীর বিশ্বাসঘাতকতায় ভেঙে পড়ে অতীত স্মৃতিতে ডুবে যায়। সাথে সাথে উঠে আসে তার বাবা-মায়ের ভালোবাসা ও পরিবারের গল্পের শুরু।

ডিসেম্বর 26, 2025 - 14:00
 0  0

জুনায়েদ কবির বাসায় ফিরে সবাইকে মুকবুল আহমেদের অবস্থা সম্পর্কে জানালেন সাথে এটাও জানালেন যে তিনি জাহানারা খানমকে বিয়ে করতে চান এবারের ছুটিতেই, কারণ আগামী ছয় মাস তিনি ছুটি পাবেন না। জুবায়ের কবির বিনা বাক্যে রাজি হয়ে গেলেন কারণ চার মাস পর তার হজ ফ্লাইট তাছাড়া জাহানারা খানমকে তাদের পরিবারের সবার আগে থেকেই পছন্দ শুধু ছেলের মুখ থেকে শোনার অপেক্ষায় ছিল।

এদিকে মুকবুল আহমেদের অবস্হার তেমন কোনো উন্নতি হয় নি। মুখ দিয়ে কথা বলতে পারেন না শুধু ইশারা ইঙ্গিত বুঝতে পারেন বুঝাতেও পারেন। চারদিন হাসপাতালে থাকার পর ডাক্তার রিলিজ দিয়ে দিয়েছে কারণ মুকবুল আহমেদের অবস্হার কোনো উন্নতি হচ্ছে না। বাসায় নিয়ে আসার পর জুবায়ের কবির সপরিরারে মুকবুল আহমেদকে দেখতে গিয়ে তার কাছে জুনায়েদ কবির আর জাহানারা খানমের বিয়ের প্রস্তাব রাখলেন। মুকবুল আহমেদ ছেলে বৌমার দিকে তাকালেন তারা ইশারায় বুঝালো জুনায়েদ কবিরকে তারা পছন্দ করেন ছেলে হিসাবে তিনি একশো তে একশো।

মালিহা জাহানকে পাঠালেন মেয়ের মতামত জানতে, জাহানারা খানম বললেন বাবা ভাইয়ের উপর তার আস্হা আছে। মুকবুল আহমেদ ইশারায় জানালেন তিনি রাজি। দুই পরিবার মিলে ঠিক করা হলো আগামী কাল সন্ধ্যার পর বিয়ে হবে পারিবারিকভাবে। কিন্তু বিকালের দিকে মুকবুল আহমেদের অবস্হা আরো খারাপ হতে শুরু করলো , জাওয়াদ কবির সিদ্ধান্ত নিলেন বাবার উপস্হিতিতেই বোনের বিয়ে দিবেন । হুজুর ডেকে দুই পরিবারের সম্মতিতে বিয়ে হয়ে গেলো জুনায়েদ কবির আর জাহানারা খানমের। মুকবুল আহমেদের দু চোখ বেয়ে খুশির অশ্রু বেরিয়ে এলো যেন তিনি এই ক্ষণটির অপেক্ষায় ছিলেন।

মেয়ের হাত তুলে দিলেন জুনায়েদ কবিরের হাতে, ইশারায় বুঝালেন সুখে দুঃখে সর্বদাই যেন জাহানারা খানমের হাত আঁকড়ে রাখেন। জুনায়েদ কবির মুকবুল আহমেদের হাতে হাত রেখে ওয়াদা করলেন তিনি জাহানারা খানমের খেয়াল রাখবেন। মুকবুল আহমেদ সবার দিকে একবার তাকালেন তারপর আস্তে আস্তে কালেমা পড়তে পড়তে চোখ বুঝলেন । দায়িত্ব শেষ করেই তিনি পরপারে পাড়ি জমালেন, জাহানারা খানম কান্নায় ভেঙে পড়লেন। কাঁদতে কাঁদতে তিনি জ্ঞান হারালেন, দাপনের পর শেষ বারের মত বাবার মুখখানা আর দেখা হলো না ।রাতেই মুকবুল আহমেদকে কবর দেওয়া হল।

আপনার প্রতিক্রিয়া কী?

পছন্দ পছন্দ 0
অপছন্দ অপছন্দ 0
ভালোবাসা ভালোবাসা 0
মজার মজার 0
রাগান্বিত রাগান্বিত 0
দুঃখিত দুঃখিত 0
চমৎকার চমৎকার 0
Nishat Tasnim Nira গল্পের ভুবনে হারিয়ে যাই, চরিত্রের ভেতরে খুঁজে পাই নতুন আলো। ভালোবাসি লিখতে, কারণ লেখা আমার নিঃশ্বাস। প্রতিটি গল্পে লুকিয়ে থাকে একটু আমি, আর একটু আপনাদের জন্য অজানা অনুভূতি।