অসমাপ্ত ভালেবাসা (পর্ব ৩)
জোহা তার হারানো প্রেমিক জোহান চৌধুরীর বিশ্বাসঘাতকতায় ভেঙে পড়ে অতীত স্মৃতিতে ডুবে যায়। সাথে সাথে উঠে আসে তার বাবা-মায়ের ভালোবাসা ও পরিবারের গল্পের শুরু।
জাহানারা খানম নীরবে বাসায় ঢুকে গেলেন।মনে মনে চক কষে ফেললেন তিন ভাই বোনের শায়েস্তার উপায়। আপাতত জুনায়েদ কবিরকে নিয়ে তার ভাবনা। কীভাবে তার কাছে ক্ষমা চাইবেন কী করে তার কাছে পৌঁছাবেন সেই ভাবনায় বিভোর জাহানারা খানম। প্রায় আধা ঘণ্টা ভাবলেন তারপরও কোনো কুল কিনারা করতে পারলেন না। সময় যত যাচ্ছে ততই ব্যাকুল হয়ে উঠছেন। সন্ধ্যার পর একে একে সবাই বাসায় ফিরে এলো। সবার সাথে স্বাভাবিক থাকার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু কিছু না কিছু ঠিকই গড়বড় করে ফেলছেন। ভাবী বার বার জিজ্ঞেস করছেন কী হয়েছে। জাহানারা খানম হাসি মুখে বলেন কিছু হয় নি। রাতে খাবার খেতে ডাকলো তার বাবা ভাই ভাবী।কিন্তু খেতে গেলেন না। সারা রাত অস্থিরতায় কাটলো। সকাল সকাল ভার্সিটির জন্য তৈরি হলেন, উদ্দেশ্য জুনায়েদ কবিরকে দেখা এবং তাকে সরি বলা।
জুনায়েদ কবির ছুটিতে বাসায় আসলে জাহানারার খানমের বাসার সামনে চায়ের দোকানে দাঁড়িয়ে থাকতো যখন জাহানারা খানম রিকশায় উঠতেন তখন তার পিছু নিতেন অন্য রিকশা করে। ভার্সিটি ছুটি হওয়া পর্যন্ত দাড়িয়ে থাকতেন। জাহানারা খানম মাঝে মাঝে ভাবতেন এই লোকটার কী কোনো ক্লান্তি নেই। বাসার বাহিরে এসে চারদিকে হন্যের মত হয়ে জুনায়েদ কবিরকে খুঁজতে লাগলেন। তার ছায়াও কোথাও দেখা গেলো না। অস্থির জাহানারা খানম ভার্সিটি পৌঁছালেন কিন্তু ক্লাস করতে পারলেন অমনোযোগিতার জন্য উল্টো স্যার তাকে ক্লাস থেকে বের করে দিলেন। রাগে দুঃখে জাহানারা খানমের বেহাল অবস্থা। ভার্সিটির বাহিরে এসে জুনায়েদ কবিরকে খুঁজতে লাগলেন কিন্তু দেখা ফেলেন না। হঠাৎ করে দুফোঁটা চোখের পানি গড়িয়ে পড়লো।এই প্রথম তিনি জুনায়েদ কবিরের ভালোবাসা অনুভব করলেন।
ভার্সিটি থেকে ফেরার পথে দেখা হলো সেই পাঁচ তালার আঙ্কেল আন্টির সাথে। জাহানারা খানম তাদের সাথে কুশলাদি বিনিময় করলেন এবং কথা চালিয়ে জানতে পারলেন যে তারা তাদের বড় ছেলের জন্য মেয়ে দেখতে যাচ্ছেন। আরও জানতে পারলেন তাদের ঐ তিন বিচ্ছু বাসায় আছে। জাহানারা খানম তো এই সুযোগ হাত ছাড়া করার পাত্রী নয়। বাসায় এসে সোজা মিনহাজের রুমে ঢুকে পড়লেন। মিনহু বাজান কী ছয়েছে মন খারাপ কেনো ভাবী বকেছে। নাটকবাজ মিনহাজ কান্না করে বলল আমার জন্মই হলো তোমার ভাই ভাবীর বকাবকী শোনার জন্য আচ্ছা ফুপু তুমিই বল আমি কী পড়াশোনায় এতই গাধা নাকি পরিক্ষায় পাস তো করি। এই পড়াশোনা দিয়ে মোটামুটি আমি একটা চাকরীও পাবো আর আল্লাহ চাহে তো নায়িকা রেখার মত একটা ললনাকে বিয়েও করতে পারবো।
জাহানারা খানম তাল মিলিয়ে বললেন,হ্যাঁ কেনো পারবেনা অবশ্যই পারবে আল্লাহ চাহে তো জয়া বচ্চনকেও বিয়ে কথা করতে পারবে ।আচ্ছা মিনহু আগামীকাল যে তোমার বন্ধু রোহানের বার্থডে তাকে কী গিফট দেবে। সেটাই তো ভাবছি আমার কাছে তো টাকা নেই। আরে মিনহু আমি আছি না। আচ্ছা শুনো তোমাকে আমি ৫০০টাকা দেব তার আগে আমার একটা কাজ করতে হবে তোমাকে। হ্যাঁ ফুফু বলো না আমি রাজি তুমি যা বলবে তা আমি অক্ষরে অক্ষরে পালন করবো। আমি জানি পড়াশোনায় তুমি ডাবলু হলেও কাজে তুমি পারফেক্ট। সুনাম করলে না বদনাম কাজের কথা বলো। পাঁচ মিনিট পর বলছি।
জাহানারা খানম কিচেনে গিয়ে সুন্দর করে চার গ্লাস শরবত বানালেন। এক গ্লাস মিনহাজের আর তিন গ্লাস ঐ বিচ্ছু বাহিনীর। শরবতের সাথে দিলেন তিন গ্লাসে তিনটা জামালের গোটা। ট্রেতে করে শরবত মিষ্টি আর আচার নিলেন। মিনহাজের হাতে ধরিয়ে দিয়ে তাকে বলে দিলেন এই গ্লাস তোমার আর এই তিন গ্লাস পাঁচ তালার নতুন বাড়াটিয়ার তিন ছেলেমেয়ের।আঙ্কেল আন্টি এখন বাসায় নাই।
শরবত তোমার হাতে পরিবেশন করে তোমার সামনে খাওয়াবে। কাজ সঠিকভাবে কমপ্লিট করলে টাকা পাবে নয়তো পাবে না আর বন্ধুকেও গিফট দেওয়া হবে না। ডোন্ট ওয়ারি কাজ শেষ করেই ফিরবো। নাটকবাজ মিনহাজ আসর জমাতে ওয়াস্ত। পাঁচ তালায় গিয়ে কলিংবেল চাপতেই দরজা খুলে দিলো মেয়েটা।যেহেতু মেয়েটা জাহানারা খানমদের বাসায় আসা যাওয়া করতো তাই মিনহাজকে চিনতো।দরজা থেকে সরে মিনহাজকে বাসায় প্রবেশ করতে দিলো। সবাই ড্রয়িং রুমে ছিল মিনহাজ ট্রী টেবিলে খাবারগুলো রেখে তাদের সাথে কুশল বিনিময় করে বলল ভাইয়া আপনাদের সাথে আড্ডা দিতে চলে এলাম। বাসায় কেউ নেই তাই ভাবলাম আপনাদের সাথে এই গরম দুপুরটা শরবত পান করার মধ্য দিয়ে কাটাই। নিজ হাতে বানিয়ে নিয়ে এলাম। নিন শুরু করুন আর মন্তব্য করুন আমি কেমন শরবত বানালাম।আমার আব্বু বলে আমি নাকি ভবিষ্যতে শরবত বানিয়েও বিক্রি করতে পারবো না।
তাই আপনাদের দিয়ে শুরু করলাম এই ব্যবসা করে আমি সফল হবো কিনা।সবাই মিনহাজের খুব প্রশংসা করলো। মিনহাজ আরো কিছুক্ষণ গল্প করে বিদায় নিল।বাসায় এসে জাহানারা খানমকে জানালো কাজ কমপ্লিট টাকা বুঝিয়ে দাও। জাহানারা খানম টাকা দিয়ে বললেন কাউকে কিছু বলবেনা।
আপনার প্রতিক্রিয়া কী?
পছন্দ
0
অপছন্দ
0
ভালোবাসা
0
মজার
0
রাগান্বিত
0
দুঃখিত
0
চমৎকার
0