অসমাপ্ত ভালেবাসা ( পর্ব ৪)
জোহা তার হারানো প্রেমিক জোহান চৌধুরীর বিশ্বাসঘাতকতায় ভেঙে পড়ে অতীত স্মৃতিতে ডুবে যায়। সাথে সাথে উঠে আসে তার বাবা-মায়ের ভালোবাসা ও পরিবারের গল্পের শুরু।
জুনায়েদ কবির দ্রুতগতিতে বাসায় ঢুকে বাথরুমে ঢুকে গেলেন কাউকে কিছু বুঝতে দিলেন না। ফ্রেশ হয়ে এসে রুমেই শুয়ে পড়লেন কারো প্রশ্নের মুখামুখি তিনি হতে চান না। তিনি মস্তিষ্কের নিউরনে চাপ সৃষ্টি করলেন জাহানারা খানমের ঐ সময়ে বলা কথাগুলো স্মরণ করার জন্য। কথাগুলো মনে পড়তেই তার চোয়াল শক্ত হয়ে এলো। তিনি ভাবতে লাগলেন কে সেই বীর পুরুষ যে তার অবর্তমানে তার প্রেয়সীকে ময়না টিয়া সম্বোধন করে প্রেমপত্র লিখে। তিনি মনে মনে চক কষে ফেললেন ফাঁদ পেতে আর রাখা যাবে না এবার শিকারীকে নিজের জালে আটকাতে হবে। রাতে খাবারের জন্য ডাইনিংয়ে ডাক পড়ল। জুনায়েদ কবির শোয়া থেকে উঠে আয়নার সামনে দাঁড়ালেন দেখলেন চেহারায় এখনো কিছুটা হালকা লাল লাল ভাব আছে। তিনি ডাইনিংয়ে পৌঁছাতেই তার মা প্রশ্ন করলেন কী হয়েছে চেহারা এমন কেনো? জুনায়েদ কবির আস্তে করে গলায় তন্দ্রভাব এনে বললেন ঘুমিয়ে পড়েছিলাম তাই এমন লাগছে। কথা ঘোরানোর জন্য বললেন তাড়াতাড়ি খাবার দাও মা খুব খিদে পেয়েছে। হ্যাঁ দিচ্ছি এই নে শুরু কর। খাওয়া দাওয়া শেষে জুনায়েদ কবিরের বাবা জুবায়ের কবির পরিবারের সকল সদস্যদের ড্রয়িং রুমে ডাকলেন।
একে একে পরিবারের সকল সদস্য ড্রয়িং রুমে উপস্থিত হল। জুবায়ের কবির সকলের উদ্দেশ্যে বললেন আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি তোমাদের মা এবং আমি এ বছর হজে যাবো। আমার পাঁচ ছেলে মেয়ের মধ্যে বড় চার ছেলে মেয়ের প্রতি আমি আমার দিক থেকে সকল প্রকার দায়িত্ব কর্তব্য পালন করেছি। বাকি রইল কবির তার প্রতিও অর্ধেক দায়িত্ব কর্তব্য পালন করেছি আরো অর্ধেক বাকি আছে। আমরা হজে যাওয়ার আগে সেই অর্ধেক দায়িত্ব কর্তব্যও শেষ করতে চাই। কবির, জ্বী বাবা, তোমার সব ভাইবোনদের জীবনসঙ্গিনী পছন্দ করার সুযোগ আমি দিয়েছি তোমাকেও দিতে চাই। আশা করছি খুব দ্রুতই আমরা তোমার জবাব জানতে পারবো। জুনায়েদ কবির যেন মেঘ না চাইতে বৃষ্টি পেলেন। পরের দিন সকাল থেকে ভার্সিটি থেকে ফিরে আসা পর্যন্ত জুনায়েদ কবির জাহানারা খানমকে আড়াল থেকে অবলকন করলেন। আজ তার মনটা বেশ ফুরফুরে কারণ দীর্ঘ পাঁচ বছর পর আজ প্রথম দেখলেন প্রেয়সীর দুচোখ ভরা ভালোবাসা তার জন্য।
এদিকে জাহানারা খানম সিদ্ধান্ত নিলেন জুনায়েদ কবিরের বাসায় যাবেন বিকেলে। যদি একটু দেখা হয় তাহলে চোখের পিপাসাও মিটাবেন সরিও বলবেন। তাই মালিহা বেগমের কাছে গিয়ে বললেন ভাবী কতদিন হলো আমরা জোবায়ের আঙ্কেলের বাসায় যাই না,চল না আজ যাই। সে কী কথা গত সপ্তাহে না গেলাম। আজকে না অন্য একদিন যাবো। না ভাবী আজকেই যাবো। আচ্ছা একটু পরেই তোমার ভাইয়া আসবে যদি কোনো কাজ না থাকে তাহলে যাবো। জাহানারা খানম রুমে গিয়ে শুয়ে শুয়ে ভাবতে লাগলেন কবে কীভাবে তিনি জুনায়েদ কবিরকে এতটা ভালোবাসলেন। গত দুই বছর ধরে তিনি জুনায়েদ কবিরের চোখের ভাষা এবং ভালোবাসাকে বুঝতে পেরেছেন। অথচ এসএসসি পরীক্ষার লাস্ট তিন মাস এবং ইন্টারমিডিয়েট পুরাটাই তিনি তাকে পড়িয়েছেন। অথচ তিনি কিছুই বুঝতে পারেন নি। ভার্সিটির ভর্তি পরীক্ষার আগেই জুনায়েদ কবির চাকরিতে জয়েন করেন। চাকরিতে যাওয়ার আগে জুনায়েদ কবির জাহানারা খানমকে বলেছিলেন আমি কাছে অথবা দূরে থাকি সবসময়ই তোমার পাশে আছি। চিরকাল আমার হয়ে থেকো। অতীত স্মৃতি চারন করতে করতে জাহানারা খানম ঘুমিয়ে পড়লেন। মালিহা জাহান দুপুরের খাবারের পাট চুকানোর পর মনে পড়লো আজ তো তার ছোট মুনায়েমের কোচিং আছে। তিনি ছেলেকে নিয়ে কোচিং-এ চলে গেলেন। সেখানে গিয়ে জানতে পারলেন আজ পেরেন্টস মিটিং আছে কোচিং-এ। ফলে তার আার বাসায় ফেরা হল না। আগের রাতে ঘুম কম হওয়ায় জাহানারা খানম দুপুরে ঘুমের রাজ্যে তলিয়ে গেলেন। সন্ধ্যায় তার ঘুম ভাঙলো কলিং বেলের আওয়াজে।
দরজা খুলতেই হুড়মুড় করে বাসায় ডুকে পড়লো মিনহাজ। হাপাতে হাপাতে বলতে লাগলো ফুফী আমাকে বাঁচাও আমি শেষ। আজকে আব্বু আমাকে মেরে ফেলবে ও ফুফী আমার কী হবে। আমি এখনো বিয়েটা পর্যন্ত করতে পারিনি ছেলেমেয়ের মুখে বাবা ডাকটা শুনতে পারিনি আমার শয়নে স্বপনে দেখা স্বপ্নগুলোর কী হবে ফুফী। জাহানারা খানম বিরক্ত হয়ে বললেন,কী হয়েছে সেটা না বলে শুধু আবোল তাবোল বললে বাঁচাবো কীভাবে? আরে ফুফী তোমার স্পেশাল শরবত খেয়ে পাঁচ তালার সিপাত ভাইয়া হাসপাতালে। আব্বুকে বলে দিলে কী হবে আমার তা তো বুঝতেই পারছো।খবরটা জাহানারা খানমের কাছে অমৃতের সুধার মতো শোনালো, তিনি হাসতে হাসতে লুটোপুটি খাচ্ছেন আর বেচারি মিনহাজ তার দিকে আহাম্মকের মত চেয়ে আছে। কিছুক্ষণ পর হাসি থামিয়ে জাহানারা খানম মিনহাজকে কাছে টেনে আদর করে বললেন, নো টেনশন বাবা ভাইয়া তোমাকে কিছুই করবে না। আর ঐ সিপাত ভাইয়াকে কিছুই বলবে না। তুমি শিওরটি দিচ্ছ। ইয়েস মাই বয়।
আপনার প্রতিক্রিয়া কী?
পছন্দ
0
অপছন্দ
0
ভালোবাসা
0
মজার
0
রাগান্বিত
0
দুঃখিত
0
চমৎকার
0