নিদ্রাহীন মানুষ আর সপ্নের জগতের মানুষ
নিদ্রাপুর গ্রামের মানুষ ঘুমাতো না।। আর সপ্নাপুর গ্রামের মানুষ ঘুমাতো আর সপ্ন দেখতো।।
একবার এক পাহাড়ের চূড়ায় একটি ছোট্ট গ্রাম ছিল, যার নাম ছিল নিদ্রাপুর। সেই গ্রামের লোকজন রাতে একদম ঘুমাতো না। দিনের বেলায় তারা কাজ করত, গল্প করত আর সন্ধ্যায় সবাই মিলে একসঙ্গে গান গাইত। তাদের এই অদ্ভুত অভ্যাসের কারণে তারা খুবই উদ্যমী আর সতেজ ছিল। এই গ্রামের ঠিক উল্টো দিকে ছিল আরেক গ্রাম, যার নাম ছিল স্বপ্নাপুর। এই গ্রামের লোকজন রাতদিন শুধু ঘুমাতো আর স্বপ্ন দেখতো। তাদের কাছে স্বপ্নই ছিল জীবনের মূল অংশ। নিদ্রাপুরের মানুষরা স্বপ্নাপুরের মানুষদের অলস বলে মনে করত, আর স্বপ্নাপুরের মানুষরা নিদ্রাপুরের মানুষদের ভাবত স্বপ্নহীন। একদিন একটি ভয়ঙ্কর ঝড় আসে। ঝড়টা এমন ছিল যে দুই গ্রামেই ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। নিদ্রাপুরের লোকেরা বুঝতে পারে যে তাদের কিছু সরঞ্জাম আর খাদ্যশস্য ধ্বংস হয়ে গেছে। তারা দ্রুত সমাধানের জন্য একত্রিত হয়। স্বপ্নাপুরের লোকেরা ঝড়ের সময় তাদের স্বপ্নের মধ্যে ছিল। একজন স্বপ্ন দেখছিল যে একটি বিশাল গাছ তাদের গ্রামে এসে পড়েছে, আরেকজন দেখছিল যে খাবার সব হারিয়ে যাচ্ছে। সকালে যখন তারা ঘুম থেকে ওঠে, তখন তারা সবাই একই ধরনের স্বপ্ন দেখেছে জেনে অবাক হয়। নিদ্রাপুরের এক বৃদ্ধা, যার নাম ছিল লীলা, বুঝতে পারলেন যে তাদের গ্রামের খাদ্যশস্য শেষ হয়ে যাচ্ছে এবং তারা যদি দ্রুত কিছু না করে, তাহলে দুর্ভিক্ষ হতে পারে। তিনি তার গ্রামের সবাইকে ডেকে বললেন, "আমাদের স্বপ্নাপুরের লোকেদের সাহায্য চাইতে হবে।" প্রথমে সবাই তার কথায় রাজি হলো না। কিন্তু লীলা তাদের বোঝালেন, "হয়তো তাদের কাছে এমন কোনো সমাধান আছে, যা আমরা জানি না।" নিদ্রাপুরের লোকেরা স্বপ্নাপুরে গেল। তারা যখন পৌঁছাল, দেখল স্বপ্নাপুরের লোকেরা তাদের স্বপ্নের কথা একে অপরকে বলছে। নিদ্রাপুরের প্রধান তাদের কাছে তাদের সমস্যার কথা বললেন। তিনি বললেন, "আমাদের খাদ্যশস্য নষ্ট হয়ে গেছে। তোমরা কি কোনোভাবে আমাদের সাহায্য করতে পার?" স্বপ্নাপুরের প্রধান হাসিমুখে বললেন, "আমরা তোমাদের সাহায্য করতে পারি। আমাদের স্বপ্নের মধ্যে আমরা দেখেছি যে তোমাদের গ্রামে এক গোপন জায়গায় খাদ্যশস্য লুকিয়ে আছে। তোমরা যদি ভালো করে খুঁজো, তবে অবশ্যই খুঁজে পাবে।" নিদ্রাপুরের লোকেরা প্রথমে তাদের কথা বিশ্বাস করতে পারল না। কিন্তু তাদের আর কোনো উপায় ছিল না। তারা ফিরে এসে স্বপ্নাপুরের মানুষদের দেখানো জায়গাগুলো খুঁজে দেখতে লাগল। আর সত্যি সত্যিই, তারা একটি মাটির নিচে লুকানো গুদাম খুঁজে পেল, যা ঝড়ের সময় অক্ষত ছিল। সেই দিন থেকে দুই গ্রামের মধ্যে বন্ধুত্ব শুরু হয়। নিদ্রাপুরের লোকেরা বুঝতে পারল যে দিনের বেলা জেগে থাকার যেমন গুরুত্ব আছে, তেমনি রাতের বেলা স্বপ্ন দেখারও এক বিশেষ ক্ষমতা আছে। আর স্বপ্নাপুরের লোকেরা বুঝতে পারল যে স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে কর্মঠ হওয়ারও প্রয়োজন আছে। এই দুই গ্রাম মিলেমিশে একটি নতুন গ্রাম তৈরি করল, যার নাম ছিল দিবাপুজা। এখানে তারা দিনের বেলা কঠোর পরিশ্রম করত আর রাতে সুন্দর স্বপ্নের রাজ্যে ডুব দিত। এভাবেই তারা তাদের জীবনকে পুরোপুরি উপভোগ করতে শিখল।
আপনার প্রতিক্রিয়া কী?
পছন্দ
1
অপছন্দ
0
ভালোবাসা
0
মজার
0
রাগান্বিত
0
দুঃখিত
0
চমৎকার
0