অসমাপ্ত_ভালেবাসা (পর্ব ৫)

জোহা তার হারানো প্রেমিক জোহান চৌধুরীর বিশ্বাসঘাতকতায় ভেঙে পড়ে অতীত স্মৃতিতে ডুবে যায়। সাথে সাথে উঠে আসে তার বাবা-মায়ের ভালোবাসা ও পরিবারের গল্পের শুরু।

নভেম্বর 12, 2025 - 11:29
নভেম্বর 12, 2025 - 11:29
 0  11

ঘড়ির দিকে চোখ পড়তেই জাহানারা খানমের নিজের প্রতি নিজেরই বিরক্তি আসলো। আবারও মনটা খারাপ হয়ে গেলো,সেই সাথে ভাবীর উপরও অভিমান জন্মালো। ঘর জুড়ে পায়চারি করতে লাগলেন কিছুই ভালো লাগছে না।

জাহানারা খানম চিন্তায় পড়ে গেলেন সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত সাড়ে আটটা বেজে গেলো এখনো কেউ কেনো বাসায় ফেরেনি। এরই মধ্যে মিনহাজ কয়েকবার এসে জিজ্ঞেস করে গেলো সবাই কোথায় বাসায় আসছে না কেনো। জাহানারা খানম কোনো উত্তর দিতে পারেন নি। এদিকে মুকবুল আহমেদ সন্ধ্যার কিছুক্ষণ আগেই হঠাৎ মাথা ঘুরে পড়ে যান মসজিদ চত্তরে। লোকজন ধরাধরি করে তাকে বেঞ্চে শোয়ান মুখের উপরে পানি ছিটায় কিন্তু তিনি কোনো সাড়া দিচ্ছেন না।

মালিহা জাহান ছেলেকে নিয়ে কোচিং থেকে বাসায় ফেরার পথে দেখা হয় জুনায়েদ কবিরের সাথে তার সাথে কথা বলতে বলতে মসজিদের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় শুনতে পান কেউ একজন বলছে উনি জাওয়াদ স্যারের বাবা। স্যারকে তাড়াতাড়ি খবর দাও। মালিহা জাহান সাথে সাথে দাঁড়িয়ে গিয়ে জুনায়েদ কবিরকে বললেন, আমি যা শুনেছি তুমি কী তা শুনেছো। হ্যাঁ ভাবী আপনি দাঁড়ান আমি দেখে আসছি। জুনায়েদ কবির লোকজনকে সরিয়ে সামনে গিয়ে দেখলেন মুকবুল আহমেদকে। কী হয়েছে উনার জিজ্ঞেস করতেই লোকজন তাকে বলল মাথা ঘুরে পড়ে গেছে। একজন উঠে জিজ্ঞেস করলো উনাকে চেনেন নাকি আপনী?

হ্যাঁ উনি আমার শিক্ষক তাছাড়া আমরা একই গ্রামের। আপনারা উনাকে একটু দেখেন আমি গাড়ি ডাকছি হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে। এমন সময় একটা ছেলে এগিয়ে এসে বলল ভাইয়া আমাদের গাড়ি আছে এখানে উনাকে আমাদের গাড়িতে করে হাসপাতালে নিয়ে চলুন উনি আমার স্যারের বাবা। জুনায়েদ কবিরের দেরি দেখে মালিহা জাহান এগিয়ে এলেন মসজিদের গেটে লোকজনের সাহায্যে জুনায়েদ কবির মুকবুল আহমেদকে গাড়িতে উঠালেন,পিছনে ফিরতেই মালিহা জাহানকে দেখলেন ডাক দিয়ে গাড়িতে উঠিয়ে সব কিছু বললেন।

কাঁদতে কাঁদতে মালিহা জাহান বলল, দুমাস আগে বাবা মেজর স্টোক করেছিলো, সে সময় ডাক্তার জানিয়ে ছিল দ্বিতীয় স্টোকে ঝুঁকি আছে। মুকবুল আহমেদকে হাসপাতালে নিয়ে আসার কিছুক্ষন পরই জাওয়াদ আহমেদ এসে হাজির হলেন। ডাক্তার পরীক্ষা নিরীক্ষা করে জানালো মুকবুল আহমেদ দ্বিতীয় বারের মত স্টোক করেছেন। তাছাড়া উনার শ্বাসনালিতে ইনফেকশন হয়েছে যা গলাসহ বুকের বা পাশে ছড়িয়ে পড়েছে। অবস্হা খুব একটা ভালো না টাকা খরচ করতে পারবেন কিন্তু বাঁচানো যাবে না বাকি আল্লাহর ইচ্ছা। মালিহা জাহান ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করলেন, বাবার সাথে দেখা করা যাবে কিনা ।ডাক্তার বলল, এক ঘন্টা পর উনাকে আমরা সিটে দেবো তখন দেখা করতে পারবেন তবে কথা খুব কম বলবেন। মুকবুল আহমেদের অসার দেহটা পড়ে আছে সিটে।

প্রাণ থাকলেও নড়াচড়ার ক্ষমতা টুকু নেই। মালিহা জাহান মুখ চেপে ধরে কাঁদতে কাঁদতে বাহিরে বেরিয়ে এলেন, ছোট বেলায় তার বাবা মারা গিয়েছিল বিয়ের পর শ্বশুরই তার বাবার অভাব মিটিয়েছে। জাওয়াদ আহমেদ কী করবেন কিছুই বুঝতে পারছেন না, মা চলে যাওয়ার পর বাবা বোন স্ত্রী সন্তানসহ তার ভরা পরিবার ছিলো। বোনের কথা মনে পড়তেই তার আত্মা কেঁপে উঠলো বাবার কিছু হলে বোনকে সামলানো তার পক্ষে সম্ভব নয়। মা চলে যাওয়ার পর মালিহাই বোনকে সামলিয়েছে। এবার কী হবে?

আপনার প্রতিক্রিয়া কী?

পছন্দ পছন্দ 0
অপছন্দ অপছন্দ 0
ভালোবাসা ভালোবাসা 0
মজার মজার 0
রাগান্বিত রাগান্বিত 0
দুঃখিত দুঃখিত 0
চমৎকার চমৎকার 0
Nishat Tasnim Nira গল্পের ভুবনে হারিয়ে যাই, চরিত্রের ভেতরে খুঁজে পাই নতুন আলো। ভালোবাসি লিখতে, কারণ লেখা আমার নিঃশ্বাস। প্রতিটি গল্পে লুকিয়ে থাকে একটু আমি, আর একটু আপনাদের জন্য অজানা অনুভূতি।