নির্দোষ জ্বীন

আসসালামু আলাইকুম। আচ্ছা একটা প্রশ্ন—জ্বিনদেরও কি মানুষের মতো বুদ্ধি কম হতে পারে? হ্যাঁ, এমন অনেক জ্বিন আছে যাদের বুদ্ধি কম থাকে। তারা চাইলেও সব জায়গায় বুদ্ধি খাটাতে পারে না। এমনই একজন বুদ্ধিহীন জ্বিনের ঘটনা আজ আপনাদের সামনে তুলে ধরবো।

জুন 5, 2026 - 11:27
 0  0

পর্ব ১

প্রায় অনেক বছর আগের কথা। কোনো এক গ্রামে একটি মাদ্রাসা ছিল, যেখানে এতিমদের পড়াশোনার ব্যবস্থাও ছিল।

হঠাৎ একদিন ফারহানা নামের এক মেয়ে ভর্তি হতে আসে। মাদ্রাসার বড় আপা তাকে ভর্তি করার আগে তার পরিচয় ও বাবা-মায়ের সম্পর্কে জানতে চান।

উত্তরে ফারহানা বলে, “আমার বাবা-মা নেই। আমি খালার কাছে বড় হয়েছি। তিনি অসুস্থ, তাই একাই এসেছি। আমি পড়াশোনা করতে চাই। আমার খুব ইচ্ছে একজন বড় আলেমা হওয়ার। আমি এক হুজুরের কাছে হাফেজা পাশ করেছি, এখন আলেমা হওয়ার জন্য আপনার মাদ্রাসায় ভর্তি হতে চাই।”

এই কথা শুনে বড় আপার মায়া হয় এবং তাকে ভর্তি করে নেন।

সেদিন থেকে ফারহানা মাদ্রাসায় আবাসিক হিসেবে থাকতে শুরু করে। সে পড়াশোনায় এত ভালো ছিল যে সবাই তাকে খুব স্নেহ করতো।

কিছুদিন পর ফারজানা নামের এক ছাত্রীর সাথে তার গভীর বন্ধুত্ব হয়। তারা একসাথে পড়াশোনা করতো, খেত, এমনকি একসাথেই ঘুমাতো।

একদিন পরীক্ষার পর মাদ্রাসায় এক সপ্তাহের ছুটি পড়ে।

ফারজানা জিজ্ঞেস করে, “তুই বাড়ি যাবি না?”

ফারহানা মুচকি হেসে বলে, “না, আমি এখানেই থাকবো।”

তখন ফারজানা বলে, “তাহলে আমিও তোর সাথে থাকবো।”

অনেক বুঝিয়েও ফারজানাকে বাড়ি পাঠানো যায় না। শেষ পর্যন্ত বড় আপার কথায় তার বাবা-মা রাজি হয়ে যান।

এরপর কয়েকদিন সব ঠিকঠাকই চলছিল।

এক রাতে তারা গল্প করছিল। হঠাৎ ফারজানা বলে, “আমি পানি খেয়ে আসি।”

তখন ফারহানা বলে, “তোর উঠতে হবে না, আমি এনে দিচ্ছি।”

এই বলে সে তার ডান হাত অস্বাভাবিকভাবে লম্বা করে টেবিল থেকে গ্লাস এনে ফারজানার দিকে বাড়িয়ে দেয়।

এই দৃশ্য দেখে ফারজানা ভয় পেয়ে যায়। ভয় এতটাই তীব্র ছিল যে সে সেখানেই হার্ট অ্যাটাকে মারা যায়।

ফারহানা কিছুই বুঝতে না পেরে কান্না শুরু করে।

বড় আপা এসে দেখেন ফারজানা নিথর হয়ে পড়ে আছে। তার মুখে চরম আতঙ্কের ছাপ।

অনেক জিজ্ঞেস করলেও ফারহানা শুধু বলতেই থাকে, “আমি নির্দোষ, আমি ওকে মারিনি।”

পরবর্তীতে ফারজানার পরিবার এসে লাশ নিয়ে যায় এবং দাফন করে।

এরপর মাদ্রাসায় সবাই এই ঘটনার কারণ নিয়ে চিন্তায় পড়ে যায়। বড় আপার মনে সন্দেহ জাগে।

তাই তিনি একদিন ঘোষণা দেন, সুপারি গাছের ফুল লাগবে হুজুরকে সুস্থ করার জন্য।

সবাই অবাক হলেও তিনি নজর রাখেন।

শেষ পর্ব

রাতে বড় আপা দেখেন, ফারহানা হামাগুড়ি দিয়ে সুপারি গাছে উঠে ফুল এনে নিচে নামছে।

তিনি নিশ্চিত হন।

ফারহানাকে ধরে এনে জিজ্ঞেস করলে সে সব স্বীকার করে।

সে বলে, “আমি জ্বিন। আমি কাউকে কষ্ট দিতে চাইনি। আমি শুধু আমার আসল পরিচয় দেখাতে চেয়েছিলাম।”

সে কাঁদতে থাকে।

বড় আপা তাকে মাদ্রাসা ছেড়ে চলে যেতে বলেন।

ফারহানা চলে যাওয়ার আগে বলে,

“আমি নির্দোষ… আমি ফারজানাকে মারতে চাইনি…”

তারপর সে অদৃশ্য হয়ে যায়।

এরপর প্রায়ই দেখা যেত ফারজানার কবরের পাশে এক মেয়ে বসে কাঁদছে।

রাতে কবরস্থান থেকে শোনা যেত—

“ফারজানা… আমি তোকে মারতে চাইনি…”

কয়েক বছর পর সেই কান্নাও বন্ধ হয়ে যায়। ফারহানা যেন চিরতরে হারিয়ে যায়।

এই ছিল আজকের ঘটনা। লেখায় কোনো ভুলত্রুটি হলে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন। সবাই ভালো থাকবেন। আল্লাহ হাফেজ।

আপনার প্রতিক্রিয়া কী?

পছন্দ পছন্দ 0
অপছন্দ অপছন্দ 0
ভালোবাসা ভালোবাসা 0
মজার মজার 0
রাগান্বিত রাগান্বিত 0
দুঃখিত দুঃখিত 0
চমৎকার চমৎকার 0