ইস্কুল জীবনের গল্প
ইস্কুল জীবনের গল্প :শেষ বেঞ্চের নায়ক
📖 ইস্কুল জীবনের গল্প — “শেষ বেঞ্চের নায়ক”
আমাদের ইস্কুলটা ছিল গ্রামের একদম মাঝখানে। লাল রঙের টিনের ছাদ, সামনে একটা বড় আমগাছ, আর দুপুরে ঘণ্টা বাজার সঙ্গে সঙ্গে পুরো মাঠটা যেন পাখির ঝাঁকের মতো চঞ্চল হয়ে উঠত।
আমি ছিলাম শেষ বেঞ্চের ছাত্র। স্যাররা আমাকে খুব একটা চিনতেন না—কারণ আমি কখনও প্রথম হইনি, আবার দুষ্টুমিতেও সবার সেরা ছিলাম না। মাঝামাঝি কোথাও হারিয়ে যাওয়া এক ছাত্র।
আমাদের বাংলা স্যার খুব কঠোর ছিলেন। একদিন তিনি ক্লাসে এসে বললেন,
— “আগামীকাল সবাই ‘আমার স্বপ্ন’ বিষয়ে রচনা লিখে আনবে।”
সবাই খুব উৎসাহ নিয়ে লিখল—কেউ ডাক্তার হবে, কেউ ইঞ্জিনিয়ার, কেউ পাইলট। আমি সারা রাত খাতার দিকে তাকিয়ে রইলাম। কী লিখব বুঝতে পারছিলাম না।
শেষে লিখলাম—
“আমার স্বপ্ন, একদিন আমার মা যেন আর মানুষের বাড়িতে কাজ না করেন। আমি বড় হয়ে তাকে বিশ্রাম দেব।”
পরদিন স্যার খাতা দেখছিলেন। হঠাৎ তিনি থেমে গেলেন। আমার খাতাটা হাতে নিয়ে বললেন,
— “এই লেখাটা কে লিখেছ?”
আমি ভয় পেয়ে ধীরে ধীরে দাঁড়ালাম। ভাবলাম হয়তো ভুল হয়েছে।
কিন্তু স্যার চুপ করে কয়েক মুহূর্ত দাঁড়িয়ে থেকে বললেন,
— “এই প্রথম আমি শেষ বেঞ্চ থেকে এমন বড় স্বপ্ন দেখলাম।”
সেদিন পুরো ক্লাস আমার দিকে তাকিয়েছিল। কিন্তু সেই দৃষ্টিতে হাসি ছিল না—ছিল সম্মান।
টিফিনে বন্ধুরা এসে বলল,
— “তুই তো হিরো হয়ে গেছিস!”
সেদিন বুঝলাম, ইস্কুল জীবন শুধু বই আর পরীক্ষার জন্য না। এখানে স্বপ্ন জন্ম নেয়, বন্ধুত্ব তৈরি হয়, আর কখনও কখনও শেষ বেঞ্চ থেকেও কেউ নায়ক হয়ে ওঠে।
আজ ইস্কুলের সেই আমগাছটা হয়তো আরও বড় হয়েছে। কিন্তু আমার জীবনের সবচেয়ে বড় শিক্ষা আমি পেয়েছিলাম সেই ছোট্ট ক্লাসরুমেই—
আপনার প্রতিক্রিয়া কী?
পছন্দ
0
অপছন্দ
0
ভালোবাসা
0
মজার
0
রাগান্বিত
0
দুঃখিত
0
চমৎকার
0